নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাবনায় মাত্র ছয় বছরেই ৭২টি দলিলের মাধ্যমে ২০০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম হাই। পেশায় তিনি কাস্টমস উপকমিশনার। এই কর্মকর্তা ২০১১ সালের ১ আগস্ট বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। সম্প্রতি তাকে সার্কেল -৯ (উত্তরা অঞ্চল) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আলোচিত ব্যাক্তি জাহিদুল ইসলাম পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার মৃত রিয়াজুল ইসলামের ছেলে। বিসিএস ক্যাডারে যোগদান দেওয়ার পর থেকেই তিনি জমির মালিক হতে শুরু করেন। নিজের তিন ভাই ও পাঁচ বোনের কাছ থেকে ৩৪টি দলিলের মাধ্যমে ২৮ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন তিনি। রাজস্ব ফাঁকি দিতে এসব জমির হেবানামা (দানস্বত্ব) দলিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর তিন ভাই। এমনকি মায়ের নামে থাকা সম্পত্তি বাগিয়ে নিতে নিজের ভাইকে জেল পর্যন্ত খাটিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার ভাঙ্গুরা, মাগুরা, মেন্দা, চৌবাড়িয়া ও ভবানীপুর মৌজার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ায়ও জমি রয়েছে জাহিদুলের।
স্থানীয়ভাবে ওই জমির বিঘাপ্রতি দাম সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা। তবে রাস্তার পাশে হলে বিঘা ২০-৩০ লাখ টাকা। পৈতৃক সূত্রে মাত্র ১৫ বিঘা জমি পেয়েছিলেন জাহিদুল। কাস্টমসে চাকরি পাওয়ার সময় জাহিদুলের ব্যাংক হিসাবে ছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা। অথচ ছয় বছরের মধ্যে প্রায় ২০০ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। নিজের নামের পাশাপাশি স্ত্রী জুয়েলি খাতুন রুলি, শ্বশুর আলাউদ্দিন, স্ত্রীর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম, ভাগ্নে সাহিদুর রহমান সাগরসহ বিভিন্নজনের নামে কেনা হয়েছে এসব জমি। সংগ্রহকৃত নথিতে দেখা গেছে, চাকরিতে যোগদানের এক বছর পর ২০১২ সালে ২৬৬৭, ২৫০৬ ও ১৯৩১ নম্বরের তিনটি দলিলে প্রায় সাত বিঘা জমি (২০৮ শতাংশ) কেনেন জাহিদুল। এরপর ৬৪৮, ১৯৩৮, ১৫৫৩, ৮৬, ১০৭৭, ১০৭৮, ১১৯২, ২৪৩৫ ও ১৫৩৯ নম্বর দলিলসহ নামে-বেনামে ওইসব জমির মালিক হয়েছেন তিনি। কাস্টমস কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম হাই রাজধানীতে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে থাকেন । মাসে ৬০ হাজার টাকার মতো বেতন পান তিনি। বাড়িভাড়া, সন্তানদের পেছনে খরচ এবং অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে বাকিটা সঞ্চয় করলেও এত কম সময়ে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব নয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কুমিল্লায় দায়িত্ব পালন করার সময় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি মাঠপর্যায় থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
